শ্রাবণের কান্না
শ্রাবণ তুমি কত সহজেই
হৃদয়ের দুঃখগুলো ভাসিয়ে দাও আকাশে
অঝোর ধারায় কেঁদে আকাশটাকে করে তোল স্বচ্ছ ৷
আমার হৃদয়ে কেন কালো মেঘের ঘনঘটা ?
শ্রাবণ তোমার কান্নার সুরে সুরে প্রকৃতির কি যে উন্মাদনা ?
কাব্য ধ্যানে মগ্ন কবি
আর আমার প্রেয়সী-ভনিতার সুর তোলে
আমার হৃদয়ে মেঘাশ্রীত রাগে ৷
শ্রাবণ তুমি কত সহজেই গর্জনে নৃত্যের তালে তালে
আকাশে ভাসাও কালো মেঘের ভেলা
বর্ষণের তালে তালে দুঃখগুলোকে ভাসিয়ে নাও ৷
প্রকৃতিকে করে তোল আবেগময় ৷
কি যে নব যৌবন, নব জীবনের নব স্বচ্ছতা ৷
তুমি চির সবুজ, অবুঝ
খেল নব ভাঙ্গা গড়ার খেলা ৷
শ্রাবণ তুমি মনে করিয়ে দাও
কালিদাসের উত্তর ও দক্ষিণ মেঘের
দুঃখ বিরহের মাঝে নব প্রেমের বারতা ৷
যদি এমন হতো
হৃদয়ের কষ্টগুলো অঝোর ধারায় ঝরে
মিশে যেত মোহনায়
তবে দু’চোখকে বলতাম তোমরা অশ্রু ঝরাতে থাকো ৷
শ্রাবণ তোমার বর্ষণে এ ধরা প্লাবিত
চারদিকে জোয়ারের খেলা ৷
আমার হৃদয় পালে বাতাস তোলে ভাটিয়ালি সুর ৷
আমি অস্থির আমি ব্যাকুল ৷
শ্রাবণ তুমি আবার এসো, আবার এসো
আমার দরজায়, আমার হৃদয় মাঝে
যেমন করে সে আসে ৷
তোমার প্রতীক্ষায়, এই আমি
হাসব কাঁদবো চিরটাকাল ৷


