দিদি: এই তো সেদিনই মাইনে পেলি। আবার দুশো কিসের? পরে দেব, এখন বাসনগুলো মাজ, সব এঁটো হয়ে পড়ে আছে…
লক্ষ্মী: আমার ছেলেটার একটা জামা খুব পছন্দ হয়েছে। পুজোয় পরতে চায়। মাত্র দুশো টাকা কম পড়ছে। একটু দেখুন না দিদি।
দিদি: অ। তো জামার দাম কত বলছে?
লক্ষ্মী: ৬০০ টাকা। ছেলের বায়নায় একটা সপিন মলে নিয়ে গেছিলুম। ওখানে ছেলেটা জামাটা দেখেই কেনার জন্য কান্নাকাটি করছিল…
দিদি: বাবা শপিং মলে নিয়ে গেছিল, শখ কত। ওসব জামা এখানে হাটেও পাওয়া যায়। ফুটপাথ থেকে কিনে দিস…
লক্ষ্মী: দিদি জানেনই তো, ছেলেটার বেরেনে টিউমার হয়েছে। ডাক্তার বলেছে আর বেশীদিন বাঁচবেনা। মরার আগে ওর একটা আবদার রাখতে চাই…
(আঁচলে মুখ চাপা দিয়ে কান্না লুকোবার চেষ্টা করে লক্ষ্মী)
দিদি: আচ্ছা আচ্ছা কর্তা বাড়ি ফিরলে ওকে বলিস। আমার কাছে নেই। সেও দেবে কিনা জানিনা। এমনিতেই কাল তরকারিতে বেশী নুন দিয়েছিলিস বলে তোকে ছাড়িয়ে দিতে বলেছে। তোর রান্না এমনিতেও ভালো না, তার ওপর টাকা ছাড়া কিছু বুঝিস না…
[মাথা হেট করে দাঁড়িয়ে থাকে লক্ষ্মী। কি বলবে ভেবে পায়না…]
দিদি: কিরে বাসনগুলো মাজতে বললাম যে
লক্ষ্মী: দিদি আপনি তো কত দামী শাড়ী কেনেন। আমায় না হয় পুজোয় কিছু দিতে হবেনা। সবাই তো কাজের মেয়েকে পুজোয় কিছু দেয়।
দিদি: আমার সাথে তোর তুলনা করছিস? ভিখারির শখ জেগেছে দেখো। আচ্ছা একশ টাকা দিচ্ছি। পুজোয় তোর জন্য আবার কিছু চেয়ে বসিস না। আর দিতে পারবনা…
[রাতে লক্ষ্মীর বাড়িতে]
লক্ষ্মী: বাবাই ভাত টুকু খেয়ে নে। পরশুর মধ্যে তাহলে তোর পছন্দের জামাটা কিনে দেব…
বাবাই: সত্যি মা? আর মা তুমি কিছু খেলেনা?
লক্ষ্মী: আমি খেয়ে এসেছি বাবাই, ওদের বাড়িতে রান্না করার পর খেতে দিয়েছিল। আমার পেট ভরা…
(একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে লক্ষ্মী। দুদিন একটু কম চাল কিনে যদি আরও একশ টাকা জমানো যায়, তাহলে হয়ত ছেলেটার শখ মেটানো যাবে। কে জানে হয়ত এটাই ছেলেটার শেষ পুজো)
একবার ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে লক্ষ্মী…


