রেস্টুরেন্ট পাহারা দেওয়ার গুরুদায়িত্ব মতিনের ওপর। কিন্তু তার মাথায় এখন অন্য কিছু ঘুরছে। গেটে দাঁড়ালেও তার মন এখন অন্যখানে।
আজ জন্মদিনের বিশাল পার্টি। মতিন আজকে বারবার ম্যানেজারের সাথে দেখা করতে চাইছে। কারণটা অজানা। ম্যানেজার এত ব্যস্ত যে মতিনের কথা শোনার মতো সময় পাচ্ছে না। মতিন যতবারই আসছে, ম্যানেজার হাতের ইশারায় পরে আসার কথা জানিয়ে দেয়।
অবশেষে সে সুযোগ পেল। মতিন বেশ ইনিয়ে-বিনিয়ে যা বলল, তা হলো আজ তার ছেলের জন্মদিন। ছেলে তার বাবাকে বলেছিল, আসার সময় যেন ভালো কিছু নিয়ে আসে। তাই মতিন ভাবছিল ম্যানেজার স্যারকে বলে যদি কিছু পাওয়া যায়।
ম্যানেজার ভ্রু কুঁচকাল। বিরক্তি নিয়ে বলল, তুমি মিয়া আগে বলবা না। এখন তো কিচেনে কিছুই নাই। আজ দেখলা না কেমন ভিড়। কী আর করা, অন্য একদিন তোমার ছেলের জন্য ভালো কিছু দিয়া দিব। এখন যাও।
মতিনের মন ভরে নাই। মুখে না বললেও মনে মনে বলল, পোলার জন্মদিন তো আরেক দিন আইবো না।
মতিন চলে যাচ্ছিল। এমন সময় ক্লিনিংয়ের কলিম মিয়া এগিয়ে আসে। একটা প্যাকেট হাতে ধরিয়ে দেয়। বেশ আবেগ নিয়ে বলে, ভাই, এইডা খাবার খারাপ না। স্যাররা তো মেলা খাবার লই, খাই কিন্তু একডু। যেডা ফালাইয়া দেয় হেইডা আমি আলাদা কইরা পরতেক দিন বাড়িত লইয়া যাই। আইজক্যা আপনের পোলার জন্মদিন। আপনে এইডা লইয়া যান। এত রাইতে কই খাবার পাইবেন? পোলায় মন ভইরা খাইতে পারব। আপনি আর আমি জানলাম, পোলায় তো আর জানব না, এইডা ফেলান দেয়া খাবার।


