
এক
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে প্রচুর লোক তাঁদের লেখা বই দিতে আসতেন। একবার এক শিক্ষক এসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তাঁর লেখা একটি বাংলা ব্যাকরণ বই দিয়ে বললেন, গুরুদেব, সময় পেলে একটু দেখবেন বইটি কেমন হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ বললেন, ঠিক আছে দু’চার দিন পরে আসুন, আমি দেখে রাখব।
ঠিক তিন দিনের মাথায় লোকটি রবীন্দ্রনাথের কাছে গিয়ে হাজির। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, গুরুদেব, আমার ব্যাকরণ বইটি দেখেছিলেন?
রবীন্দ্রনাথ তাঁর দিকে এক ঝলক তাকিয়ে বললেন, দেখেছি, খুব ভাল করে দেখেছি। বাংলা ভাষা যে এত কঠিন এই প্রথম জানলাম।
দুই
শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের প্রিয় ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কথাশিল্পী প্রমথনাথ বিশী। তো, একবার প্রমথনাথ বিশী কবিগুরুর সঙ্গে শান্তিনিকেতনের আশ্রমের একটি ইঁদারার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওখানে একটি গাবগাছ ছিল। কবিগুরু হঠাৎ তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘জানিস, একসময়ে এই গাছের চারাটিকে আমি খুব যত্ন করে লাগিয়েছিলাম। আমার ধারণা ছিল, এটা অশোকগাছ, কিন্তু যখন গাছটি বড় হল দেখি ওটা অশোক নয়, গাবগাছ।’
তার পর তিনি প্রমথনাথের দিকে সরাসরি তাকিয়ে স্মিতহাস্যে যোগ করলেন, ‘তোকেও অশোকগাছ বলে লাগিয়েছি, বোধ করি তুইও গাবগাছ হবি।’
তিন
একবার রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীজি একসঙ্গে বসে সকালের জলখাবার খাচ্ছেন। গান্ধীজি লুচি পছন্দ করতেন না, তাই তাঁকে ওটসের পরিজ খেতে দেওয়া হয়েছিল; আর কবিগুরু খাচ্ছিলেন গরম গরম লুচি।
গান্ধীজি তাই দেখে বললেন, ‘গুরুদেব, তুমি জানো না যে তুমি বিষ খাচ্ছ।’ উত্তরে কবিগুরু বললেন, ‘বিষই হবে; তবে এর অ্যাকশন খুব ধীরে। কারণ, আমি বিগত ষাট বছর যাবৎ এই বিষ খাচ্ছি।’


