বেদে যিনি অদিতি, গৌরী, ঊষা, আয়তী, উপনিষদে যিনি ব্রহ্মবিদ্যা উমা হৈমবতী, কাত্যায়নী কন্যাকুমারী, পুরাণে তিনিই আবার দুর্গতিনাশিনী দেবীদুর্গা। ‘যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা’ এই পরমব্রহ্ম পরাশক্তি মহা মাতৃকায় বিভিন্ন রূপে প্রকটিতা। বেদবন্দিতা মহাশক্তি বহুনামে ‘আখ্যায়িতা। দুর্গা, কালী, পার্বতী, নারায়ণী, জগদ্ধাত্রী, অন্নপূর্ণা, গায়ত্রী, সাবিত্রী, চামুন্ডা, চণ্ডী প্রভৃতি নানা নামে নানা রূপে ভক্ত সমাজে আরাধ্যা ৷
ঋকদ্বেদে দেবীসূক্তে নিহিত আছে দেবী পূজার বীজ। এই সূক্তে দেবী নিজেকে সর্বশক্তি সমন্বিতা, সর্বশ্রষ্ঠী, জগতের ঈশ্বরী বলে চিহ্নিত করেছেন। ‘অহং রাষ্ট্রী সংগমনী বসুনাম।’ তৈত্তিরীয় আরণ্যকের যাজ্ঞিকা উপনিষদের দুর্গাগায়ত্রীতে উল্লেখ দেখা যায়, “কাত্যায়নায় বিদ্মহে, কন্যাকুমারীং ধীমহি তন্মো দুর্গিঃ প্রচোদায়ৎ। বেদের ভাষ্যকার সায়নের মতে দুর্গি ও দুর্গা অভিন্না। দুর্গা শব্দের অর্থ দুঃখেন গম্যতে যা সা দুর্গা দুর্গামাদেবী ইতি।’ অর্থাৎ যম, নিয়ম আসন, প্রাণাযাম, প্রত্যাহার, ধ্যান, ধারণা, সমাধি, শুদ্ধকর্ম ও উপাসনা প্রভৃতি। তপস্যা দ্বারা যাঁকে লাভ করা যায় তিনি দুর্গা বা দুর্গাদেবী। শাস্ত্রে বলা আছে দুর্গ’ শব্দটি দৈত্যবাচক এবং ‘আ’ কার নাশবাচক। অর্থাৎ দুর্গা নামে অসুরকে যিনি নাশ করেন তিনিই অভিহিতা দুর্গা নামে। আবার মার্কণ্ডেয় পুরাণান্তর্গত চণ্ডীতে দেবী নিজেই তাঁর পরিচয় দিয়ে বলেছেন, ‘আমি আবার দুর্গম নামক মহাসুরকে বধ করে দুর্গাদেবী নামে বিখ্যাত হব।”দুর্গাসি দুর্গ ভব সাগর নৌর সঙ্গা-দুর্গা বা সঙ্কট হতে যিনি সকলকে উদ্ধার করেন তিনি দুর্গা।
দেবীপুজার সামগ্রিক বিকাশটি দৃষ্ট হয়। শ্রীশ্রীচণ্ডীতে। প্রথম, মধ্যম ও উত্তর ভেদে দেবী দুর্গা তিনরূপে প্রকাশিতা। এই প্রকাশময়ী মূর্তির নাম মহাকালী, মহালক্ষ্মী ও মহাসরস্বতী। তামসীরূপে তিনি মহাকালী, রাজসীরূপে দেবীর প্রকাশ মহালক্ষ্মীরূপে, আর সান্তিকীরূপে তিনি মহাসরস্বতী। এই মহামাতৃকা সর্বব্যাপিনী সর্বস্বরূপিণী। তিনি সর্বভুতে চেতনা, বুদ্ধি, নিদ্রা, ক্ষুধা, ছায়া, শক্তি, তৃষ্ণা, ক্ষান্তি, শান্তি, শ্রদ্ধা, কান্তি, স্মৃতি, দয়া, বৃত্তি, তুষ্টি, ভ্রান্তি ও মাতৃরূপে স্থিতা। চণ্ডীর অষ্টম অধ্যায়ে দেবী বৰ্ণিতা অষ্টশক্তি রূপে। এই আটটি শক্তি হলেন ব্রহ্মাণী মাহেশ্বরী, কৌমারী, বৈষ্ণবী, ঐন্দ্রী, যজ্ঞবারাহী, নারসিংহী ও চণ্ডিকা। মার্কণ্ডেয় পুরাণে অন্তর্গত শ্রীশ্রী চণ্ডী মহাগ্রন্থে উল্লেখ আছে স্বরোচিষ মন্বন্তরে চৈত্র বংশের সুরথ সমগ্র পৃথিবীর রাজা হয়েছিলেন। রাজা সুরথের কাহিনী দিয়েই দেবী মাহাত্ম্য বা শ্রীশ্রী চণ্ডী চরিত্রের জন্ম বা শুভারম্ভ হয়েছে। রাজনৈতিক চক্রান্তে রাজা সুরথ রাজ্যহারা হলেন। স্বীয় মন্ত্রী, সেনাপতি ও সেনাদল এবং আত্মীয়গণ কর্তৃক বিতারিত হয়ে তিনি বনে গমন করেন। বনের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে তিনি অবশেষে উপস্থিত হলেন বেদজ্ঞ মেধস মুনির শান্ত তপোবনাশ্রমে। প্রশান্ত তপোবনপ্রমও রাজাকে শান্তি দিতে পারলনা। তিনি সবসময় পরিবার-পরিজন, পুত্রতুল্য প্রজা, সৈন্য আর রাজধানীর চিন্তায় মগ্ন থাকতেন। কিছুদিন পর সেখানে আরও এক তাপিত প্রাণ পুরুষের আগমন ঘটে, যার নাম সমাধি বৈশ্য। তিনিও স্ত্রী, পুত্র, আত্মীয়-স্বজন কর্তৃক বিতারিত। পরিবার-পরিজন দ্বারা পরিত্যক্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি পরিজনদের মায়া-মমতা ভুলতে পারছিলেন না। রাজা সুরথের মতো তিনিও মমতাকাতর। এ মহাসমস্যা থেকে পরিত্রাণের আশায় দুইজনেই গেলেন মুনিবর মেধসের কাছে। বেদজ্ঞ মহামুনি মেধস উভয়ের মর্মবেদন বার্তা শ্রবণ করতঃ সানন্দে ঘোষণা করলেন-শুধু মানুষ নয়, ইতর প্রাণীরাও স্নেহ মমতার মোহে বশীভূত হয় যে অলৌকিক শক্তির প্রভাবে, তিনিই মহামায়া, তিনিই পরমবিদ্যা আদ্যাশক্তি। ‘মহামায়া, প্রভাবেন সংসারস্থিতিকারিনী’ এই মহামায়ার প্রভাবেই জীবন তাঁকে বা পরম সত্যকে ভুলে পৃথিবীর মায়াময় ও অনিত্য বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট হয়। সংসারের মায়াময় বন্ধনের কারণ একমাত্র তিনিই। তিনিই একাধারে অবিদ্যা স্বরূপা ও ব্রহ্মাবিদ্যা স্বরূপিনী। এ নিখিল বিশ্ব তারই দিব্য রূপ। তিনি নিত্যা, সনাতনী ও পরেমশ্বরী। মেধস মুনি আরও জানালেন ‘আরাধিতা সৈব নূনাং ভোগস্বর্গপবর্গদা”। “আরাধনা করলেই তিনি উপাসকের ইহকালে সুখ ও পরকালে অশেষ শান্তি প্রদান করেন। তিনি সকল দেবতাদের ঈশ্বরী। জীবের মুক্তি প্রদায়নী।
সা বিদ্যাং পরমা মুক্তোর্হভুভূতা সনাতনী।
সংসার বন্ধু হেতুশ্চ সৈব সৰ্ব্বেশ্বরী।” শ্রীশ্রী চণ্ডী-১/৫২
মুনিবর মেধস এর কাছে দেবী মাহাত্ম্য ও দেবীর সকল লীলা কাহিনী শ্রবণ করে তাঁর কৃপা লাভের আশায় রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য দুর্গতিহারিণী দেবী দুর্গার অর্চনা করেন। কঠোর মাতৃ সাধনায় আবিষ্ট হলেন তাঁরা দুজনেই। সর্বশক্তি স্বরূপিনী, জগৎ পালিনী মহাদেবী তাঁদের স্তবে প্রীত হলেন এবং দুজনকে বর প্রদান করেন। রাজা সুরথের হৃত রাজ্য পুনরুদ্ধার আর সমাধি বৈশ্যের মোক্ষ লাভ তথা সমাধি প্রাপ্তিতে বর দান করলেন। এখানে রাজা সুরথ প্রবৃত্তির প্রতিনিধি আর সমাধি নিবৃত্তির প্রতীক স্বরূপ। দেবীবরে সমাধির হলো ব্রহ্মপ্রাপ্তি আর সুরথের হলো রাজ্যপ্রাপ্তি। দেবী দুর্গা রাজাকে প্রবৃত্তি মার্গে রেখে শক্তির রাজত্বে রাখলেন আর সমাধি বৈশ্যকে নিবৃত্তি মার্গের সন্ধান ব্রহ্মের রাজত্বে পৌঁছে দিলেন। সুরথ ও সমাধি উভয়ে বসন্তকালে দেবীর পূজা করে কৃপা লাভ করেছিলেন বলে এই পূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয় ৷কিন্তু ত্রেতাযুগের অবতার নারায়ণ শ্রীরামচন্দ্র রাবন বধের নিমিত্তে দেবীর আরাধনায় মেতে উঠলেন শরৎ কালে যাকে শারদীয়া দুর্গা পূজা বলা হয় ৷ মূলত: দুটি পুজাই দেবী দুর্গারই আরাধনা করা হয়। রাবন নিধনের জন্য ১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে পূজা করলেন শ্রীরামচন্দ্র অকালে। বোধন মানে জাগানো। মহাশক্তির সুপ্তাবস্থাকে জাগ্রত করাটাই বোধন। সাধন জগতে এই অকাল বোধন মানে মূলাধার চক্রে সদ্য অবস্থিতা কুণ্ডলিনী শক্তিকে জাগ্রত করা। সাধন রাজ্যে প্রবেশের পূর্বে সাধককে ঐ মহাশক্তিকে আহত করতে হবে। তবেই তো তাঁর পূজা। এটি সাধকের মহা যোগাবস্থা।
দুর্গাপূজা যদিও সাধারণভাবে আশ্বিন মাসের শুক্লা সপ্তমী থেকে শুক্লা দশমী পর্যন্ত চারদিকে অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আশ্বিন মাসের অমাবস্যা তিথিতেই দেবীর শুভ আহ্বান ঘটে মর্ত্যলোকে। এই অমাবস্যা তিথিকে ‘মহালয়া’ বলা হয়। মহালয়ার শুভক্ষণে শ্রীশ্রী চণ্ডী পাঠ কল্পে জগৎমাতা দেবী দুর্গাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় ধরাধামে। তাই এ দিনটি অতীব পবিত্র। আলয় মানে গৃহ। আমাদের দেহটাই পবিত্র দেবগৃহ বা দেবালয়। এই দেবালয়ের ‘হৃদয় পদ্মাসন’-এ দেবীকে বসবার আমন্ত্রণ জানানো হয় মহালয়ার দিনে। মহামহিমাময় মুহুর্তে ৷ অপূর্ব আলোক রাশি প্রতিভাত হয় যে হৃদ পদ্মাসনে, সে পবিত্র আসনে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করার যে-যোগক্রিয়া তাই মহালয়া ক্রিয়া। দেহঘর আলোকিত হবার পর সাধক সেই অপূর্ব জ্যোতির্ময়ী জগৎ মাতৃকার সাধনায় চিত্তকে নিবিষ্ট করেন। দেবী পক্ষের শুভ সূচনা করা হয় মহালয়ার পুণ্যতিথিতে। এই মহালয়া অনুষ্ঠান কিন্তু বসন্ত কালের দেবী পূজায় করা হয় না। অকালে দেবীকে জাগানোর প্রয়োজন ছিল বলেই শ্রীরামচন্দ্র শরৎকালে মহাপূজা করেছিলেন এবং এজন্য মহালয়ার দিনে তাঁরই শুভাগমনী বার্তা জানানো হয়। সেই থেকেই অকালে দেবী পূজার প্রচলন শুরু: যা বর্তমানে চলছে ব্যাপকভাবে। চারদিনের এ মহাপুজার পূর্বদিন অর্থাৎ ষষ্ঠীর দিনে সায়াহ্নে দেবীর শুভ অধিবাস ক্রিয়া সমাপন করে একাধারে মহাসপ্তমী,মহাষ্টমী ও মহানবমী তিথিতে দেবীর পূজা করা হয় এবং মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপূজা সমাপন শেষে মহাদশমীর দিনে’ ‘অপরাজিতা’ পূজা করতঃ দেবীর দশমী বিহিত পূজা করতে হয়। পরাক্রান্তশালী মহিষাসুরের সাথে যুদ্ধ করে দেবী অপরাজিতা হয়েছিলেন বলেই তাঁর আর এক নাম ‘দেবী অপরাজিতা’। দশমীর দিনে তাই দেবীকে অপরাজিতা হিসাবেও পূজা করতে হয়।
পঞ্চমীতে হয় পঞ্চভূত শোষন। ষষ্ঠীতে হয় সাধকের আত্মবোধন তথা আত্মজাগরণ। সাধন জগতে অশুভ শক্তির সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয় সাধককে। এই মহাযুদ্ধে জয়ী হতে পারলেই সাধক মহাশক্তি দুর্গার সন্ধান পান। সাধনার দশম স্তরে উন্নীত হতে পারলেই পরমাবিদ্যা মহাশক্তির নাগাল পাওয়া যায়। সাধক এ স্তরে আগাতে পারলেই অপরাজিতা হন অন্তরাত্মার যুদ্ধে। এ যেন দশমীর মহাদশা যা সাধক কখনো ভুলতে পারেন না ৷
পরাশক্তির অধিকারী অসুরকে বধ করার জন্য মা দুর্গা দশ হাতে দশ অস্ত্রে সজ্জিতা। তাঁর এই দশহাত দশ দিক রক্ষার প্রতীক। তাঁর পায়ের নিচে আছে উদ্যত সিংহ আর উদ্যত অসুর। সিংহ রাজসিক আর অসুর তামসিক শক্তির প্রতীক। পশুরাজ সিংহ সাত্ত্বিক গুণাশ্রয়ী দেবীকে বহন করে অবলীলায়। দেবী কাঠামোতে শোভা পায়- দেব সেনাপতি ক্ষাত্র শক্তির প্রতীক কার্তিক, সিদ্ধিদাতা গণপতি গণেশ, বিদ্যাদায়িনী সর্ব শুক্লা সরস্বতী ও প্রকৃত ঐশ্বর্যময়ী শ্রীদেবী লক্ষ্মী। কিন্তু সবার উপরে শোভা পায়-মঙ্গলের বার্তাবাহী দেবাদিদেব মহাদেব। সকলেই দেবীর এক এক শক্তির প্রতীক। মূলে কিন্তু তিনি এক পরমাবিদ্যা অকপিনী, যিনি সর্বভূতের প্রাণরূপী মহাদিব্যমূর্তি মা ও জগৎ মঙ্গলময়ী দুর্গা ৷
তিনি বিশ্বের অধিশ্বরী এবং পালনকর্ত্রী। তিনি বিশ্বেশ্বর ব্রহ্মাদিরও পূজনীয়া ৷ দেবসেনাপতির পাশে দাঁড়ায়ে আছেন- নব পত্রিকা বা কলাবৌ। সর্বজীবের প্রাণরক্ষার উপযোগী শাক সমূহের দ্বারা পৃথিবীকে পালনকারিনী এই দেবীর নাম সার্থক করার মানসেই দুর্গা পূজায় নবপত্রিকা রচনার বিধান রয়েছে। কারণ দেবীর আর এক নাম ‘শাকম্ভরী’। তিনি দশভূজা ৷ অন্তর্জগতে এই দশহাত দশ অস্ত্র সজ্জিত হয়ে দেহরূপ রাজ্যের দশ দমনে সূক্ষ্ম নির্দেশ করেন। আবার তাঁর এই দশহাত দশশক্তি সম্পন্না। এরা হল- কীর্তি বা সুনাম, শ্রী বা সৌন্দর্য বাণী, বাকশক্তি, স্মৃতি বা স্মরণ, মেধা বা ধারণশক্তি, ধৃতি বাসংযম, ক্ষমা,ভক্তি বা শ্রদ্ধা, মোক্ষ বা মুক্তি, মিত্রতা বা সখ্যভাব ইত্যাদি। মূলতঃ এই দশ শক্তিই নারী বা মাতৃশক্তির মূলশক্তি। মানব সভ্যতাকে বিচিত্রভাবে সাজিয়েছেন যিনি- তিনিই করুণাময়ী মা দুর্গা।
পুরাণ সাহিত্যের মতো মহাকাব্য রামায়ণ মহাভারতেও দেবীমহিমা প্রকীর্তিতা। কবি কৃত্তিবাসের বাংলা রামায়ণে আছে রামচন্দ্র রাবণবধের জন্য বসন্ত ঋতুর পরিবর্তে অকালে শরৎকালে দেবীর বোধন করে জগন্মাতার পূজা করেছিলেন, কিন্তু বাল্মীকি কৃত রামায়ণে দেবীপূজার কথা নেই। দেবী ভাগবত ও কালিকাপুরাণে পাই শ্রীরামচন্দ্রের পুজা উল্লেখ। সেই পূজার ধারাবাহিকতা আজও চলে আসছে।
মা দুর্গার উপাসনার স্পষ্ট উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায় বেদব্যাসকৃত মহাভারতের দুটি দুর্গাস্তাত্রে ৷ কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের প্রাক্বালে ভগবান বাসুদেব উপদেশ দিয়েছিলেন অর্জুনকে দুর্গা স্তব করার জন্য ৷ ‘পরাজয়ার শত্রুনাং দুর্গাস্ত্রোত্র মুদীরয় ৷ তাই ভীষ্মপর্বে দেখি তৃতীয় পান্ডব শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশে শত্রুজয়ের ইচ্ছায় করজোড়ে মহামায়ার স্তব করেছিলেন।
বিরাটপর্বের স্ত্রোতে আছে, অজ্ঞাতবাস যাতে নির্বিঘ্নে হয় সে জন্য প্রথম পান্ডব যুধিষ্ঠির দুর্গাস্তুতি করেছিলেন। এই মহাদেবীকে তিনি অভিহিত করেছেন, মহিষাসুরনাশিনী, বিন্ধ্যবাসিনী হিসেবে।
শ্রীমদ্ভাগবতে এই মহামায়া যোগমায়া ও বিষ্ণুমায়া রূপে উল্লেখিত। ব্রজগোপীগণ শ্রীকৃষ্ণকে পতিরূপে লাভ করার জন্য নানা উপচারে দেবীর অর্চনা করে এক মাস ধরে কাত্যায়নী ব্রত পালন করেছিলেন। এই কাত্যায়নীই মহামাতৃকা দুর্গা। আচার্য শ্রীজীব গোস্বামী কাত্যায়নী দুর্গামাতাকে বৈষ্ণবীশক্তি বলে অভিহিত করেছেন। তাই জগন্মাতৃকা হলেন কৃষ্ণভক্তিপ্রদায়িনী। ব্রজবালাগণ যে মন্ত্রে কাত্যায়নীর পূজা করেছিলেন শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্ধে, তার সুচারু উল্লেখ আছে।
যদি উপযুক্তভাবে পূজা না করতে পারেন, তবে কেবল ঘটে গঙ্গাজল ও বিল্বদলেও পূজা করা কর্তব্য। দুর্গোৎসব সত্যযুগ হতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৷ তবে যুগভেদে, পরে কালভেদে রূপান্তর ঘটেছে। প্রবাদে আছে, বরেন্দ্রভূমির রাজা কংসনারায়ণ বঙ্গদেশে প্রথম দুর্গোৎসব করেন। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আমল হতেই মূর্তি নির্মাণ আরম্ভ ও পূজার এর ব্যপকতা পায়।
তথ্য সূত্র:
১। মূর্তি পূজা কী ও কেন- ভবেশ রায় ।
২। দেব-দেবীর পরিচয় ও বাহন রহস্য-শ্রী শিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তী
৩। বিভিন্ন সনাতন ধর্মের পত্রিকা ।


